বর্তমানে মাছ খাওয়া কি সত্যিই উপকারী ও প্রয়োজনীয়?Is Fish principal food nutrient now-a-days?

বর্তমানে মাছ খাওয়া কি সত্যিই উপকারী ও প্রয়োজনীয়?

বর্তমান সময়ে সুষম খাদ্য তালিকায় মাছ রাখার নির্দেশ দেননি এমন ব্যক্তি খুঁজে পাওয়া কঠিন। কিন্তু মাছ খাওয়ার উপকারিতা কি?মাছ কি এখনও খাবারের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান?

অ্যলগি পূর্ণ জলাশয় মাছ ধরা হচ্ছে
অ্যলগি পূর্ণ জলাশয় মাছ ধরা হয় এখানে চারিদিকের ফ্যাক্টরির রাসায়নিক জলে ধুয়ে মিশে যায়


আমরা জানি মাছ স্বাস্থ্যকর খাবার। কিন্তু অনেকে বলেন গর্ভবতী মহিলাদের মাছ কম খাওয়া উচিত । সত্যিই কি মাছ খাওয়াতে স্বাস্থ্য সম্পর্কিত সুবিধা বেশি নাকি অসুবিধা বেশি হয়। এগুলো এখন ভাবতে হচ্ছে এমন একটা সময় যখন মাছের প্রাকৃতিক ভাণ্ডারে বাড়ন্ত।

যখন এশিয়া ও আফ্রিকার পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মৃত্যুর প্রায় অর্ধেকের মতো অপুষ্টির কারণে ।এই রোগের বিশ্বব্যাপী । ভারতে অপুষ্টির প্রধান অবদান রয়েছে।

         স্বাস্থ্যসম্মত উচ্চ প্রোটিনযুক্ত খাবার তালিকায় একটি প্রধান উপাদান বলে মাছের একটি সুখ্যাতি আছে। কিন্তু সবজি ভিত্তিক খাবারের দিকে মানুষের বেশি চাহিদার জন্য বলুন অথবা সামুদ্রিক খাবারের যোগান কম হয়ে যাওয়ার জন্যই বলুন বা নদী-নালা বেশিরভাগ শুকিয়ে যাওয়ার জন্য মাছের জোগান কম হওয়ার জন্য বলুন বা কার্বন ফুটপৃন্ট এর জন্য এখন আমাদের খাদ্য তালিকায় এটি সত্যি রাখার দরকার কিনা তা আমাদের ভাবতে হচ্ছে।
         ইউনাইটেড নেশনস এর ফুড এন্ড এগ্রিকালচার অর্গানাইজেশন এর রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে যে 1974 এর পর থেকে মাছের প্রাকৃতিক ভান্ডার 90 শতাংশ থেকে কমে 66 শতাংশে এসে ঠেকেছে।
       এর মধ্যে দেখা যাচ্ছে যে ভারী ধাতু , যেমন পারদ -এর কথা মাথায় রেখে গর্ভবতী মহিলা এবং বাচ্চাকে স্তন পান করেছেন এমন মহিলাদেরকে, কিছু প্রজাতির মাছ খাওয়া সীমাবদ্ধ করতে বলা হচ্ছে।

তাই এখন প্রশ্ন মাছ খাওয়ার উপকারিতা বেশি নাকি অপকারিতা ?

ভারী ধাতু:. 


গত দশকে মাছ সংক্রান্ত দুশ্চিন্তার বিষয় গুলির মধ্যে একটি বড় চিন্তার বিষয় হল এতে থাকা দূষিত ও ধাতব পদার্থের উচ্চ পরিমাণ । 
পলি ক্লোরিনেটেড বাই ফিনাইল্স(পি সি বি- PCBS )- যদিও এগুলি  ১৯৮০-র  দশকে বন্ধ হয়ে গেছে তবুও এই রাসায়নিক টি শিল্পক্ষেত্রে প্রচুর পরিমাণে ব্যবহৃত হয়েছিল তার জন্য এখনো জল এবং মাটিতে প্রচুর পরিমাণে মিশে আছে মানুষের মেমরি, মাসেল, ব্রেন এবং শারীরিক বিকাশ-এই সবকিছুর উপর নেতিবাচক ও খারাপ প্রভাব ফেলে এগুলি দুগ্ধজাত পণ্য থেকে শুরু করে জল সব কিছুর মধ্যেই পাওয়া যায় তবে মাছের মধ্যে এর পরিমাণ সর্বাধিক। 
"আপনার মাছ খাওয়াতে পিসিবির গ্রহণের সমস্যার সমাধান করাটা বিপরীত প্রতিক্রিয়া যুক্ত হতে পারে" -জনাথন নাপিয়ের ,সাইন্স ডিরেক্টর অফ রথমসটেড  এন্ড রিসার্চ ইন হার্টফোর্ডশায়ার ইংল্যান্ড।
সমুদ্র বা নদী থেকে সরাসরি ধরে নিয়ে আসা মাছ সরাসরি খাওয়ার মাধ্যমে এই দুষিত পদার্থ মানুষের শরীরে জমা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। যায় তাই চাষ করা মাছ খাওয়া অনেক নিরাপদ।
যদিও এটা সবক্ষেত্রে একই পরিমাণে দেখা যায় না। মরশুম অনুযায়ী পিসিবি-এর পরিমাণ কম বেশি হতে পারে।
এই সব দেখে মনে হওয়া স্বাভাবিক যে চাষ করা মাছ খাওয়া ভালো। কিন্তু এরও কিছু সমস্যা আছে যেমন বড় মাছ চাষের জায়গা থেকে অনেক দূষিত পদার্থ বেরিয়ে অন্য জলে নদীতে, সমুদ্রে মিশে যায় যা সেখানকার মাছেদের দূষিত করে এবং যখন মানুষ তা খায় দূষিত পদার্থ খুব ঘুরে আবার মানব শরীরে প্রবেশ করে। মাছ চাষের জায়গা গুলি থেকে বিভিন্ন রোগ ছড়াতে বা জন্মাতে পারে যা ঘটনাক্রমে নদী বা সমুদ্রের মাছ কে বা অন্য প্রাণী কেও আক্রান্ত করতে পারে।
এন এইচ এস (NHS) বলে যে গর্ভবতী ও স্থান পান করাচ্ছেন এমন মহিলারা সপ্তাহের দুই দিনের বেশি মাছ (যেমন সলমন , সার্ডিন,কাকরা,সি-বাস,)  খাবেন না এবং একদিনে 140 গ্রাম পর্যন্ত সর্বোচ্চ খাওয়ার বিধান আছে কারণ মাঝে থাকা দূষিত পদার্থ শরীরের ও বাচ্চার ক্ষতি করতে পারে।
আরেকটি চিন্তার বিষয় হলো মার্কারি বা পারদ । এটি একটি নিউরো টক্সিন বা স্নায়ু বিষাক্ত বস্তু যা প্লাসেন্টা পেপার করে বাচ্চার শরীরে প্রবেশ করতে পারে এবং বাচ্চার গঠন ও বিকাশ কে প্রভাবিত করতে পারে।
পারদ ভক্ষণ এর সাথে জড়িত রোগ গুলির মধ্যে অন্যতম হলো ক্যান্সার ডায়াবেটিস হৃদরোগ ইত্যাদি ।আরো অনেক সবজিতে পাওয়া যায় তবে একটি অধ্যায় দেখা যায় যে পারদ সব খাবারের মধ্যে থাকলেও সমস্ত রকম খাবারের মধ্যে মাছ এবং সামুদ্রিক খাবারের মধ্যেই ৭৮% পারদ থাকে যা আমাদের শরীরে এইসব খাবারের মাধ্যমে প্রবেশ করে।
আছে এত কারো থাকার ফলে স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার ইউএসএফডি এ - গর্ভবতী মহিলা দের সপ্তাহে একবারই এই ধরনের মাছ (হ্যালিবুট,  টুনা ইত্যাদি)  জাতীয় খাবার খাওয়াতে সীমাবদ্ধ থাকতে বলে।
কিন্তু শুধু মাছ এই ভারী ধাতু জমা হওয়ার ঘটনাকে খুব বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে মনে করেন নেপিয়ার তিনি বলেন যে প্রজাতির মাছ ও প্রাণী অনেক বছর ধরে বাঁচে তাদের ক্ষেত্রে ভারী ধাতু জমা হওয়ার সমস্যা বেশি হয় । ( যেমন সোর্ডফিশ 15 থেকে কুড়ি বছর বাঁচে এই সোর্ডফিশ ভারী ধাতু শরীরে প্রবেশ করে অনেকটা পরিমাণে জমে এত বছর ধরে)।যখন তাদের খাওয়া হয় তখন এই ভারী ধাতু মানব শরীরে প্রবেশ করে।
সোর্ডফিশ এর পারদ এর পরিমাণ ০.৯৯৫ পিপিএম। অন্য দিকে সলমন মাছ ৪-৫ বছর বাঁচে, এর মধ্যে পারদ এর পরিমাণ ০.০১৪ পিপিএম।
ইউ এস‌ এনভায়রনমেন্টাল প্রটেকশন এজেন্সি বলে গর্ভাবস্থায় সর্বোচ্চ ০.৪৬ পিপিএম পর্যন্ত পারদ ভক্ষণ করা যায় যদি তা সপ্তাহে একবার হয় । যদিও এসব নিয়ে এখনো অনেক গবেষণা চলছে।
তবে এই সমস্যা ভবিষ্যতে কমবে না বরং বাড়বে কারণ আর্কটিক পার্মাফ্রস্ট এর বরফ যত গলছে গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের এবং অন্যান্য কারণে , ততই জমে থাকা বরফ এবং মাটির মধ্যে থাকা পারদ মহাসাগরের জলে মিশে যাচ্ছে।
যদিও মাছে থাকা পারদ থেকে অনেক সমস্যার সৃষ্টি হয় তবুও মাছ থেকে অনেক ভাল জিনিসও পাওয়া যায় যেমন ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিড।

ফ্যাটি অ্যাসিড

তৈলাক্ত মাছ খেলে হৃদ রোগ জনিত সমস্যা কম হয়।
কারণ এতে থাকে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিড (Omega 3 fatty acid)- ইকোসাপেন্টাইনোয়িক অ্যাসিড (ই পি এ) এবং ডোকোসাহেক্সাইনোয়িক অ্যাসিড (ডি এইচ এ)।
কিছু উদ্ভিদ ভিত্তিক উৎসে  থাকে তৃতীয় আরেক ধরনের ফ্যাটি এসিড নাম-অ্যামাইনো লিভুলেনিক অ্যাসিড (এ এল এ )। 2014 তে করা একটি অধ্যায়ন থেকে দেখা যায় যে উদ্ভিদ ভিত্তিক ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিড এর স্বাস্থ্য সুবিধা ই পি এ এবং ডি এইচ এ - এর মতই হয়। তবে এর ওপরে কোনো গবেষণা হয়নি।  ই পি এ এবং ডি এইচ এ -এর  সুবিধা কিছু মাহরুম জাতীয় খাবার ও সীউইড এও পাওয়া যায়।

ই পি এ এবং ডি এইচ এ উভয়েই শরীর এর বিভিন্ন বিপাকীয় প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু আমরা নিজেদের শরীর এ এগুলি তৈরি করতে পারিনা। তাই এগুলো আমাদের খাদ্য তালিকায় থাকা খুব দরকার -নেপিয়ার বলেছেন।
মস্তিষ্ক, রেটিনা ও অন্যান্য স্পেশাল কলা কোষের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ডি এইচ এ পাওয়া যায়। এটি ই পি এ-এর সাথে কাজ করে প্রদাহ জনিত সমস্যার সমাধান করে-যা ক্যান্সার ডায়াবেটিস হৃদরোগ ইত্যাদি রোগের কারণ।

"জনসংখ্যার ওপর কড়া অধ্যায় থেকে দেখা গেছে যে মানুষের ওমেগা 3 ফ্যাটি এসিড এর প্রভাব স্থায়ী ও শক্তিশালী। দেখা যায় যে তাদের খাবারে ইপিএ ও ডিএইচএ বেশি থাকে তাদের হৃদপিণ্ড ও অন্যান্য সাধারণ রোগ ও তার থেকে মৃত্যু অনেক কম হয়"-ফিলিপ ক্যালডার হেড অফ হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট এন্ড হেলথ ইংল্যান্ড ইউনিভার্সিটি অব সাউদাম্পটন।

ওমেগা থ্রি ফ্যাটি পাওয়া যাবে এবং পারদের বিষক্রিয়া ও নিতে হবে না এরকম একটি উপায় হল মৎস্য তৈল এর পরিপূরক খাওয়া। যদিও w.h.o. এর পক্ষ থেকে গবেষণায় পাওয়া যায় যে মৎস্য পরিপূরক খাওয়া ও তৈলাক্ত মাছ থেকে যে তেল পাওয়া যায় সেটা খাওয়াতে শরীরে একই রকম প্রভাব হয়না।

"আমাদের শরীর কোন একটি পুষ্টি উপাদান বা যৌগ থেকে সম্পূর্ণ খাদ্য পরিপাক করাতে বেশি স্বচ্ছন্দ। আমাদের তথ্য বলে হৃদ রোগে মৃত্যু কমাতে বা রিস্ক কমানোর দিক থেকে খুব অল্প সুবিধা পাওয়া যায় এক্ষেত্রে"-লি হুপার, রিডার ইউনিভার্সিটি অফ ইস্ট অংলিয়া এবং ডাব্লু এইচ ও'র রিসার্চার এর একজন।

যদিও কিছু লোককে নিয়ে করা এক অধ্যায়নে দেখা গেছে যে 334 জন লোককে চার থেকে পাঁচ বছর ধরে ওমেগা 3 ফ্যাটি এসিড সাপ্লিমেন্ট দিলে এদের মধ্যে একজন মাত্র হূদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাবে না অর্থাৎ একজনের হৃদ রোগে মারা যাওয়া আটকাবে।

কিন্তু হুপারের করা জনসংখ্যার উপর অধ্যায়নের কিছু অসুবিধা আছে। যদিও সারডিনের মতো তৈলাক্ত মাছ সস্তা কিন্তু সাধারণত মাছকে দামি খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবে দেখা হয় , বলা হয় আর্থসামাজিক স্তরের উপর নির্ভর করে অর্থাৎ যারা দামি মাছ খায় তারা উচ্চ ইনকাম গ্রুপ যুক্ত ও উচ্চ সামাজিক স্তরের হবে।

অন্য অধ্যয়নে দেখা গেছে দরিদ্র বাচ্চারা বন্যার মৌসুমে উল্লেখযোগ্যভাবে উপকৃত হয়, যখন মাছ প্রচুর হয় এবং মাছের দাম তুলনামূলকভাবে কম থাকে।

অফ-পিক মরসুমে মাছের সরবরাহ বাড়ানো দরিদ্রতম, স্বল্প-শিক্ষিত পরিবারের শিশুদের স্বাস্থ্যের উন্নতি করবে।

বাংলাদেশের মত উন্নয়নশীল নদী প্রধান দেশে শিশুর পুষ্টি এবং স্বাস্থ্যের জন্য মাছের ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

একটি বিকৃত স্থিতি-পক্ষপাত প্রভাব এবং আয় বৃদ্ধি এবং শিক্ষার বৃদ্ধিযুক্ত পরিবেশ খাদ্য তালিকায় মাছের ভাগ হ্রাস করে।

পাবলিক-এডুকেশন প্রোগ্রামগুলি যা মাছের সুবিধার উপর জোর দেয়, পুরুষ এবং মহিলা, ধনী ও দরিদ্রদের লক্ষ্য করলে শিশুদের ও অন্যান্য সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে পারে।

সাধারণত অধ্যয়ন করার সময় এরকম অনেক ফ্যাক্টরকে হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয় তবে অনেক ক্ষেত্রে অনেক এরকম ফ্যাক্টরি থাকে যেগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয় না কিন্তু তার প্রভাব থাকে। এরকমই w.h.o. 79 টি অধ্যায়ন কে নিয়ে আরো পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে ছিল এবং তাতে পাওয়া যায় যে প্রত্যেকটা অধ্যয়ন আলাদা ফ্যাক্টর কে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে আবার আলাদা ফ্যাক্টর বাদ দেয়া হয়েছে।

কিছু ইন্টারভেনশনাল অধ্যায়নে (যার মধ্যে ট্রিটমেন্ট দেওয়া হয় )যেমন কিছু মানুষকে এলোপাতাড়ি কিছু গ্রুপে ভাগ করা হলো তাদের ওমেগা 3 ফ্যাটি এসিড দেওয়া হল( ইন্টারভেনশন) এবং তারপর তার প্রভাব মাপা হল।
 এতে সমস্যা হল যখন অধ্যায়ন শুরু করা হল তখন প্রত্যেক লোকের শরীরে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিডের পরিমাণ আলাদা আছে এবং তা জানা যায় না। জানা গেলেও তা আলাদা আলাদা কম বেশি হবে। এছাড়া প্রত্যেকে আলাদা মানুষ ইপিএ ও ডি এইচ এর প্রাক যৌগকে কতটা পরিবর্তন করে নিতে পারে তাদের এনজাইমেটিক ক্ষমতা কত তার ওপর এর প্রভাব এই মানুষগুলোর ক্ষেত্রে নির্ভর করে। 

এই পার্থক্য আলাদা প্রত্যেক মানুষের খাদ্য তালিকা ও জীবনশৈলীর উপর নির্ভর করে তবে জিনগত প্রক্রিয়ার প্রভাবে এখানে কাজ করে -কেল্ডার বলেন।


আরেকটি কারণ হতে পারে যেটা মাছকে কোথায় কিভাবে চাষ করা হচ্ছে বা মাছ কোথায় বড় হচ্ছে সেটা।

সামগ্রিক ইকোসিস্টেম ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিডে ভরপুর ছোট মাছ সামুদ্রিক প্ল্যাংকটন কে খায় ,বড় মাছ ছোট মাছ কে, খায় এভাবে ওমেগা 3 ফ্যাটি এসিড প্লাংকটন থেকে মাছ মাছ থেকে বড় মাছ এবং তারপর মানুষের পাস হয় ।

অ্যলগি পূর্ণ জলাশয় মাছের চাষ করা হয়
অ্যলগি পূর্ণ জলাশয়



কিন্তু চাষ করা মাছ একটি জায়গাতেই থাকে তাদের একটি জায়গায় যে খাবার দেওয়া হয় তাই খেয়ে তারা বড় হয় । সামুদ্রিক মাছের মত চাষ করা মাছ ছোট মাছ খেতে পায় যখন তাদের ছোট মাছ খেতে দেওয়া হয় কিন্তু সামুদ্রিক মাছে নানা প্রকারের ছোট মাছ খেতে পায় আর চাষ করা মাছ এর ক্ষেত্রে একই ধরনের ছোট মাছ প্রায়ই খেতে দেওয়া হয় যা পেরুভিয়ান অ্যান্কোভিস থেকে প্রস্তুত করা হয়।

মৎস্য শিল্প বাঁচিয়ে রাখার জন্য অ্যান্কোভিস-কে সর্বোচ্চ পরিমাণে চাষ করা ও মারা হচ্ছে যদিও মাছের চাষ ও পরিমাণ বাড়া উচিত পৃথিবীতে- নেপিয়ার।

'ওমেগা 3 ফ্যাটি এসিড এর পরিপূরক আহারের চাহিদা বাড়ছে এটা বুঝতে হবে যে যে মৎস্য আহার বা ছোট মাছ বড় মাছ খাওয়ানো হচ্ছে তাতে ওমেগা 3 ফ্যাটি এসিডের পরিমাণ কমে গেছে প্রকারান্তরে এটা বলা যায় যে আমরা যে মাছ খাচ্ছি তাতে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিডের পরিমাণ কমে গেছে'- ইউনাইটেড ন্যাশানস্ ফুড এন্ড এগ্রিকালচার অর্গানাইজেশন।

মহাসাগর থেকে বা নদী থেকে যে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিড প্রতিবছর বেরোচ্ছে তা সীমিত এবং আমরা তার উপর নির্ভরশীল।

 তিনি বলেন যদি মৎস্যচাষ পরিমাণ বাড়ছে অথচ মানুষের খাদ্য তালিকার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান মাছের তেল একই পরিমাণ থাকছে তার মানে এটার ঘনত্ব পরিমাণ কমে যাচ্ছে মাছের খাবার এবং মানুষের খাবার উভয় ক্ষেত্রে।

2016 তে করা একটি অধ্যায়নে দেখা গেছে যে ই পি এ এবং ডি এইচ এ-র স্তর চাষ করা মাছ গত এক দশকে অর্ধেক হয়ে গেছে তবে যে পরিমান আছে তা সামুদ্রিক মাছের তুলনায় বেশি অর্থাৎ সামুদ্রিক মাছে এর থেকেও কম পরিমাণে এগুলি আছে।

সমুদ্রের সলমন মাছ সবসময় সাঁতার কাটছে স্রোতের দিকে চলে ও বিপরীত দিকে, এদিক-ওদিক এর ফলে এর পাতলা শরীর ফ্যাট জমতে পারে না। এ যে পরিমাণ ফ্যাট খায় সে পরিমাণ ফ্যাট খরচ করে ফেলে এর ফলে শরীরে তেলের পরিমাণ কম থাকে।


মস্তিষ্কের খাবার



ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিড ছাড়াও মাঝে আরও প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান থাকে যেমন 
  •     সেলেনিয়াম কোষ ক্ষতি হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করে 
  •     আয়োডিন বিপাক প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে রাখতে সাহায্য করে
  •     প্রোটিন এবং 
 আরও অনেক কিছু।


মাছ মস্তিষ্কের খাবার বলে পরিচিত অধ্যয়নে দেখা যাচ্ছে এটা শুধু ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিড এর জন্যই নয় আরো যেসব পুষ্টি উপাদান মাছে আছে তার জন্যও বটে তবে ওমেগা 3 ফ্যাটি এসিড এর স্তর এবং মস্তিষ্কের চিন্তা ভাবনা এবং সৃজনশীলতার শক্তির ক্ষমতার মধ্যে কিছু সম্পর্ক আছে।

বিজ্ঞানীরা কিছু লোককে নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন যারা মাছ খেয়েছে এবং যারা মাছ খায় নি তাদেরকে নিয়ে এবং তাদের মস্তিষ্কের এমআরআই স্ক্যান মাপা হয়েছে দেখা গেছে যে যারা মাছ খেয়েছে তাদের মস্তিষ্কের ধূসর পদার্থের পরিমাণ তুলনায় বেশি তাদের থেকে যারা মাছ খায় নি। এর সাথে ওমেগা 3 ফ্যাটি এসিড এর কোন সম্পর্ক নেই।

আমাদের মস্তিষ্কের আয়তন সুস্থ স্বাভাবিক স্বাস্থ্য ও রোগের সময় প্রভাবিত হয়। স্নায়ু সংখ্যা বেশি থাকলে ব্রেনের আয়তন বেশি হবে -সাইরাস রাজি, অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর অব রেডিওলজি এন্ড নিউরোলজী ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিন।


163 লোককে নিয়ে করা একটি অধ্যায়নে মানুষের মাছ খাওয়ার অভ্যাস এবং তার মাথার এমআরআই এর প্রকৃতিকে নিয়ে তুলনা করা হয়। এই তুলনায় পাওয়া যায় যে যারা মাছ খেয়েছেন তাদের ফ্রন্টাল লোব এর আয়তন বেশি হয় যাতে মনোযোগ বেশি দিতে পারে এবং টেম্পরাল লোব এর আয়তন বেশি হয় যাতে স্মরণশক্তি, শেখার উপায় চিন্তাভাবনা করার শক্তি বেশি হয়।


মাছ এবং মস্তিষ্কের সম্পর্ক 



মাছের প্রদাহ কম করার ক্ষমতার সাথে মাছ ও মস্তিষ্কের সম্পর্ক জড়িত। যখন মস্তিষ্কে প্রদাহ হয় প্রদাহের সঙ্গে লড়তে গেলে স্নায়ুর কাজ এবং গঠন প্রভাবিত হয় এবং তা খারাপ হয় -রাজি বলেন, এর অর্থ ভুলে যাওয়া রোগ( অ্যালঝাইমার) সেটা কম করার সহজ পদ্ধতি হচ্ছে, মাছ খাওয়া ।মস্তিস্ককে স্মৃতিশক্তি হারানো থেকে রক্ষা করতে কুড়ি ও ত্রিশ এর দশকের বয়সের লোক লোককে সপ্তাহে একদিন মাছ খাওয়ার অভ্যাস শুরু করা উচিত -রাজি বলেন।


অন্য যে কারণে মাছ খাওয়া স্বাস্থ্যকর সেটি হচ্ছে মাছ অন্য অস্বাস্থ্যকর খাবার থেকে আপনাকে দূরে রাখবে। যখন আপনি মাছ খাবেন তখন আপনি অন্য অস্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতি কম ঝুঁকবেন।

 যদিও এখনো মাছ না খাওয়া ও শরীরের পুষ্টির অপর্যাপ্ততা নিয়ে কোনো গবেষণা নেই তাই বলা যায় না যে মাছ খাদ্যতালিকায় অপরিহার্য।
 
 কিন্তু এটা ঠিক যে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিড সুস্বাস্থ্য এবং মানসিক বিকাশের জন্য প্রয়োজন।
  যেহেতু মাছ সব সময় সমান ভাবে পাওয়া যাবে না তাই এখন চিন্তাভাবনা চলছে মাছের বিকল্প খোঁজার এক্ষেত্রে অ্যালগি উৎপাদনে জোর দেওয়া হচ্ছে এবং সেখান থেকে ওমেগা 3 ফ্যাটি এসিড সংগ্রহ করার চিন্তাভাবনা এগোচ্ছে,মাছ নিয়ে আরও গভীর সমীক্ষা চালিয়ে না গিয়ে। এরকম ক্ষেত্রে লোকেরা নিয়মিত পাওয়া যাবে এরকম মাছের দিকে ঝুঁকতে পারেন চিন্তা ভাবনা করে এগুলো বেছে নিতে পারেন।


Share:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Thanks for your time to comment & no spam link please.

Copyright © Sarkarcare. Designed by OddThemes